হুসাইন বিন আফতাব, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) :
উপকূলীয় অঞ্চলের চলমান জলবায়ু সংকট, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও করণীয় তুলে ধরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপকূল মন্ত্রণালয় গঠনসহ ৯ দফা গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে শ্যামনগর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরিতে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ (বারসিক)-এর সহযোগিতায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এবং লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রান্তিক কৃষাণি লতা রানী মন্ডল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সংকট, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, নদী ভাঙন, জীবিকা অনিশ্চয়তা এবং ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। এসব সংকট দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত টেকসই সমাধান না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বক্তারা স্থানীয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেশ কিছু বাস্তবমুখী সমাধানও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, খাল-নদী পুনঃখনন, লবণাক্ততা সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির প্রসার, বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, স্থানীয় জ্ঞানের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
এসময় সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের প্রতি ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—উপকূল মন্ত্রণালয় গঠন, উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ জলবায়ু বাজেট বরাদ্দ, নিরাপদ পানির টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর জলবায়ু নীতি বাস্তবায়ন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্থানীয়/লোকায়ত জ্ঞানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, কীটনাশকের অবাধ বাজারজাতকরণে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকৃত কৃষকদের বাছাই করে সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করা।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩২নং অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করতে গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ মহামান্য হাইকোর্ট সরকারের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেছেন, যা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় যুব ও কৃষকদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন লতা রানী মন্ডল, নিমাই মন্ডল, দেলোয়ারা বেগম, বাসন্তী মন্ডল, গৌরাঙ্গ মন্ডল, সাইদুল ইসলাম ও জান্নাতুল নাইম।
বারসিকের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী (উপকূলীয় অঞ্চল) রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর বরসা গাইন এবং প্রোগ্রাম অফিসার মারুফ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণমাধ্যমে বেশি করে তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে এবং এতে উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।