আজ || মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
  শ্যামনগর স্বাস্থ্যসেবায় জেলার সেরা       রাতে ঘুরে ঘুরে কম্বল বিতরণ করলেন শ্যামনগরের ইউএনও       শ্যামনগরে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত       শ্যামনগরে ২০টি কদবেল গাছ কেটে অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগ       রামজীবনপুর আল-মদিনা কমপ্লেক্স নূরানী বিভাগের  বিদায়ী সংবর্ধনা       শ্যামনগরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে আগুনের ঘটনায় থানায় মামলা       শ্যামনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামানের মতবিনিময়       শ্যামনগরে দৈনিক দেশ জনতার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন       রমজাননগরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর মতবিনিময় সভা       শ্যামনগরে ইসলামী আন্দোলনের নেতার উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন    
 


কলকাতায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কলকাতা থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি:

কলকাতার এক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ০৪ঠা মে রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সম্মেলন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে উঠে আসে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ, সাহিত্যচর্চা, এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের নানা দিক। সম্মেলনের মূল আহ্বান ছিল—বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। এতে অংশ নেন নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। বাঙালি বিশ্বকোষের প্রধান সম্পাদক আবদুল করিম উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ‘‘বিশ্বের নানা প্রান্তে বাংলাভাষী মানুষের উপস্থিতি সত্ত্বেও, বাংলাভাষী সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, বিহার, ঝাড়খণ্ডসহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা মাধ্যম স্কুল বন্ধ করা হচ্ছে এবং বাংলা ভাষায় শিক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এই উদাসীনতার বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’’

সম্মেলনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বক্তা, ড. রঞ্জিত ধর, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন রেজিস্টার, বলেন, ‘‘আজকের দিনে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একেবারে প্রয়োজনীয় মুহূর্ত। আমাদের একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।’’ তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ইতিহাস ও ভাষার প্রতি শ্রদ্ধার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন।

পৃথ্বীরাজ সেন এবং দিলীপ বিশ্বাস সম্মেলনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে সকলে মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া, স্বামী সমানন্দজি গিরি মহারাজ এবং স্বামী আত্মকানন্দজি মহারাজ ভাষা ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার বার্তা দেন।

সম্মেলনে প্রায় ২০০ জন কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের কবিতা, গান, ও বাচিক শিল্পের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুপ্রিয়া ঘোষ।

এক বিশেষ মুহূর্তে, প্রভাত বার্তার সম্পাদক ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কবি আবু কওছার-কে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর দিলীপ কুমার বিশ্বাস এবং বাঙালি বিশ্বকোষের সম্পাদক আবদুল করিম।

সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। অংশগ্রহণকারীদের মুখে ছিল বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি নতুন আশার দীপ্তি। এই সম্মেলন ভবিষ্যতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


Top