হুসাইন বিন আফতাব, শ্যামনগর :
সুন্দরবনে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ ও ফিরে আসা মৌয়ালদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। সংসদীয় কার্যক্রম শেষে এলাকায় ফিরেই তিনি দুর্ঘটনাকবলিত মৌয়ালদের স্বজনদের খোঁজখবর নিতে ছুটে আসেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে শ্যামনগরের ভেটখালী, তারানীপুর ও সোরা এলাকায় গিয়ে তিনি প্রথমে জীবিত ফিরে আসা মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন। এসময় পরিবারগুলোর শোকাহত পরিবেশে তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম উদ্ধার হয়ে ফেরা তারানীপুর গ্রামের আল মামুন (৪৫) ও মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শোনেন। আল মামুন জানান, বৈধ পাশ নিয়ে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গিয়েছিলেন। কয়েকদিন অবস্থানের পর নৌকা হারিয়ে তারা বিপাকে পড়েন এবং পরে শুকনো গাছের ভেলা তৈরি করে দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাঝ নদীতে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে দলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ দুর্ভোগ পোহানোর পর ৪ জন এলাকায় ফিরতে সক্ষম হলেও এখনও ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এসময় এমপি বলেন, “আমি সংসদে থাকা অবস্থায় ঘটনাটি জানতে পেরেই বন বিভাগ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ইতোমধ্যে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, দুর্গত মৌয়ালদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মৌয়ালদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এসময় উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমান, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক প্রভাষক হুসাইন বিন আফতাব সহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এমপি গাজী নজরুল ইসলামের এমন সরেজমিন উপস্থিতি ও সহানুভূতিশীল আচরণে কিছুটা সাহস ফিরে পেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সুন্দরবনের কাছি কাটা এলাকার পাগলের খালে মধু সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে একটি মৌয়াল দল ঝড়ের কবলে পড়ে। এর আগে তারা বৈধ অনুমতি নিয়ে ১ এপ্রিল বুড়িগোয়ালিনী এলাকা থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে নৌকা হারিয়ে ভেলায় করে ফেরার চেষ্টা করার সময় বৈরী আবহাওয়ার কারণে দলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় ৪ জন মৌয়াল জীবিত ফিরে এলেও অপর ৪ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।